প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক >

১৬ বছরের কিশোরীর আঁকা নকশাই এখন দেশটির জাতীয় পতাকা

article-img

যেকোনো দেশের জাতীয় পতাকা মানেই সে দেশের সার্বভৌমত্ব, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতিফলন। সাধারণত অভিজ্ঞ ডিজাইনার বা বিশেষ কমিটির মাধ্যমে পতাকার নকশা চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ পাপুয়া নিউ গিনির ক্ষেত্রে ইতিহাসটা একটু ভিন্ন। দেশটির বর্তমান নান্দনিক পতাকার নকশা করেছিলেন মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী, যার নাম সুসান কারিকে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, দেশের জন্য এত বড় অবদান রাখা এই নারী শেষ জীবনে কাটিয়েছেন চরম দারিদ্র্যে।

পতাকার ইতিহাস: জমা পড়েছিল ৭০০ নকশা

১৯৭০-এর দশকের শুরুতে পাপুয়া নিউ গিনি যখন অস্ট্রেলিয়ার শাসন থেকে স্বাধীনতার দিকে এগোচ্ছিল, তখন একটি জাতীয় পতাকার জন্য দেশব্যাপী প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে প্রায় ৭০০টিরও বেশি নকশা জমা পড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে জার্মানির পতাকার আদলে তৈরি একটি নকশা নির্বাচিত হলেও তা জনগণের মন জয় করতে পারেনি।

ঠিক সেই সময় পোর্ট মোরসবির আইরাপা হাই স্কুলের ছাত্রী সুসান কারিকের জমা দেওয়া নকশাটি সবার নজর কাড়ে। তার সহজ কিন্তু অর্থবহ ডিজাইনটিই শেষ পর্যন্ত জনগণের পছন্দ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১লা জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।

পতাকার নকশার গূঢ় অর্থ

সুসান কারিকের করা এই নকশাটি দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান ও সংস্কৃতিকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে:

বার্ড অব প্যারাডাইস (Bird of Paradise): লাল পটভূমিতে উড়ন্ত হলুদ রঙের এই পাখিটি দেশটির জাতীয় প্রতীক। এটি পাপুয়া নিউ গিনির উপজাতীয় ঐতিহ্য ও উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সাউদার্ন ক্রস (Southern Cross): কালো পটভূমিতে পাঁচটি সাদা তারা দক্ষিণ গোলার্ধে দেশটির অবস্থান নির্দেশ করে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নাবিকদের কাছে এই নক্ষত্রপুঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অবহেলিত এক মেধাবীর ট্র্যাজিক জীবন

সুসান কারিকে হুহুমের হাত ধরে দেশটি তার পরিচয় পেলেও, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যথাযথ সম্মান বা আর্থিক স্বচ্ছলতা পাননি। দীর্ঘকাল দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে তিনি ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল ৬১ বছর বয়সে পোর্ট মোরসবি জেনারেল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি কোনো রাষ্ট্রীয় পেনশন বা বিশেষ স্বীকৃতি পাননি।

বর্তমানে তার পরিবার সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যাতে সুসান কারিকের নাম দেশটির জাতীয় ইতিহাস বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তাকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়।


আরো খবর